এফবিসিসিআই’র ২০২১-২৩ মেয়াদের পরিচালনা পর্ষদকে নারায়ণগঞ্জ চেম্বারসহ ১০ বাণিজ্য সংগঠনের সংবর্ধনা

দেশের রাজস্ব আয়ের ৭৫ শতাংশের যোগান দেন ব্যবসায়ীরা। তারপরেও, ভ্যাট-ট্যাক্স নিয়ে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে ব্যবসায়ীদের সর্বাত্মক সহায়তা করার আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিআই সভাপতি মোঃ জসিম উদ্দিন।
শনিবার (১১ সেপ্টেম্বর ২০২১) নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যা ন্ড ইন্ডাস্ট্রি, বিকেএমইএ এবং বাংলাদেশ ইয়ার্ন মার্চেন্টস এসোসিয়েশনসহ নারায়ণগঞ্জের ১০টি বাণিজ্যী সংগঠন কর্তৃক এফবিসিসিআই’র ২০২১-২৩ মেয়াদের পরিচালনা পর্ষদকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় তিনি কর কর্মকর্তাদের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা থেকে বেরিয়ে আসার তাগিদ দেন।
এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, দেশের জিডিপিতে ব্যবসায়ীদের অবদান ৮৫ শতাংশ। কিন্তু তারপরও বাণিজ্য সম্পৃক্ত বেশিরভাগ নীতিমালায় বেসরকারিখাতকে সম্পৃক্ত করা হয়না। যার ফলে অনেক নীতি বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়ে।
কোভিড-১৯ এর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, মহামারীর কারণে সারা বিশ্ব ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। এরমধ্যেও আমাদের জিডিপি সন্তোষজনক অবস্থানে রয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নের ফলে এটি সম্ভব হয়েছে। তবে এই প্রণোদনার মাত্র ৮০% বাস্তবায়িত হয়েছে। কোভিড এর কারণে অনেক ছোট ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান প্রায় বন্ধের পথে। তাদের পুনরুদ্ধার করার জন্য প্রণোদনা প্যাকেজের টাকা শতভাগ ছাড় করার আহ্বান জানান এফবিসিসিআই সভাপতি।
খেলাপিঋণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মন্দ ঋনের বেশিরভাগই বৃহৎ শিল্পের। ব্যাংকগুলোকে এসএমইখাতে ঋণ সহায়তা বাড়ানোর তাগিদ দেন এফবিসিসিআই সভাপতি। ব্যবসায়ীদের ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে বিভিন্ন চেম্বার ও এসোসিয়েশনকে সম্পৃক্ত করলে, ঋণ প্রদান ও আদায় কার্যক্রম সহজতর হবে বলে মনে করেন এফবিসিসিআই সভাপতি।
পাটশিল্প ও সুতার অতীত ঐতিহ্য স্মরণ করে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, এক সময় নারায়ণগঞ্জকে প্রাচ্যের ডান্ডি বলা হতো। এশিয়ার বৃহৎ পাটকল আদমজী মিল বন্ধ হওয়ার পরও নারায়ণগঞ্জের ব্যবসা-বাণিজ্য থেমে নেই। আমাদের রপ্তানির সিংহভাগই নিটখাত থেকে আসে। এ বছর এখাতের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৩%। নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ীদের নিরলস প্রচেষ্টার ফলে এটা সম্ভব হয়েছে। জেলার ব্যবসায়ীক কার্যক্রমে গতি আনতে, নারায়ণগঞ্জের বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের শাখা খোলার আশ্বাস দেন এফবিসিসিআই সভাপতি।
তিনি জানান, ভবিষ্যতে বিভিন্ন এলাকা নিয়ে ক্লাস্টারভিত্তিক সম্ভাবনা বিষয়ে এফবিসিসিআই থেকে সেমিনার আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
এফবিসিসিসিআইতে খাতভিত্তিক প্যানেল এডভাইজার নিয়োগের তথ্য জানিয়ে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, পলিসি এডভোকেসি বিষয়ে ভবিষ্যত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে এফবিসিসিআই এই প্যানেল উপদেষ্টাদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।
বাণিজ্য সংগঠনগুলোকে তাদের আওতাভুক্ত শিল্পের সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, অনেক সংগঠনের কার্যক্রম শুধু এজিএম এবং পিকনিকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। ঐ সংগঠনগুলো শিল্পের সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানের উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান এফবিসিসিআই সভাপতি।
বাংলাদেশে ক্যাপিটাল মেশিনারিজ আমদানি ক্রমশ বাড়ছে। এতেই বোঝা যায় বাংলাদেশে শিল্পায়ন থেমে নেই। ২০২৬ সালে এলডিসি গ্রাজুয়েশন হলে আমাদের পরবর্তী চ্যালেঞ্জগুলো দক্ষতার সাথে মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভিশন-২০৪১ ও ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ বাস্তবায়নে বেসরকারিখাতকে সরকারের সাথে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানান এফবিসিসিআই সভাপতি মোঃ জসিম উদ্দিন।

  • Our Location
  • The Federation of Bangladesh Chambers of Commerce and Industry (FBCCI)
    60, Motijheel C/A, Dhaka, Bangladesh.
    Tel: 88-02-223380588, 223381470
    Fax: 88-02-9567621
    E-mail: secretariat@fbcci.org

  • Our Map
  • Subscribe To Our Newsletter